মেনু নির্বাচন করুন

বাতায়নের ঘটানাপুঞ্জ

আনুমানিক প্রায় চারশত বৎসর পূর্বে ব্রক্ষপুত্রের শাখা মগড়া নদীর তীরে রায় বংশের জমিদার বাস করতেন। অনেকেরই ধারনা তাদের রায় বংশের নামেই রায়টুটী গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে। তারপর এই গ্রামে ধীরেধীরে এসে বসবাস করতে শুরু করেন।


১৮৬১ সালে তত্কালীন অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণার সময় মত প্রকাশ করেন যে, স্থানীয় এলাকায় উন্নতির জন্য কিছু ক্ষমতা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর অর্পণ করা প্রয়োজন। তারপর ১৮৮২ সালে রর্ড রিপন সর্ব প্রথম এদেশে বাস্তবে স্থানীয় স্বায়ত্ত শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনসাধারণকে অধিকতর রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছেন। লর্ড রিপনের এ প্রস্তাবনার প্রতি তত্কালীন ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের পূর্ণ সমর্থন ছিল। এরপর লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে ঐতিহাসিক প্রস্তাবনা ঘোষণা করেন। তার প্রস্তাবনার ভিত্তিতে ১৮৮৩ সালে বাংলায় বিধান সভায় একটা বিল উত্থাপন করা হয়। উক্ত প্রস্তাবনায় গ্রাম এলাকায় জনসাধারণের কল্যাণের জন্য প্রথম ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়।


১৯১৯ সালে গ্রাম স্বায়ত্ত শাসন আইন পাস হয়। উক্ত আইনে বলা হয়, সাধারণত গড়ে ১০টি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন বোর্ড গঠিত হবে। ইউনিয়নের গড় আয়তন ছিল ১০ থেকে ১৫ মাইলের মধ্যে, এর গড় জনসংখ্যা ছিল ১০ হাজার। ইউনিয়ন বোর্ডের কার্যকাল ছিল ৩ বছর। ১৯৩৫ সালে ইউনিয়ন বোর্ডের কার্যকাল ৪ বছর করা হয়। এই আইনে প্রেসিডেন্ট ছাড়াও একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। আনুমানিক ১৯৪৩ সালে প্রথম ১৯টি মৌজা নিয়ে বর্তমান রায়টুটী ইউনিয়ন বোর্ড গঠিত হয়। ঐ সময় রায়টুটী ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আঃ হেলিম খান মিলকী (লালমিয়া সাহেব)। ১৯৫৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন নং ৩৫ গৃহীত হলে ১৯১৯ সালে আইন সংশোধন করা হয়। প্রকাশ্যে ভোটদান বাতিল, গোপন ব্যালটে ভোট চালু হয়। ইউনিয়নকে ৩টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। এই আইনে সর্বপ্রথম নারীদের ভোটাধিকার দেয়া হয়।


১৯৫৯ ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র চালু করে। ইউনিয়ন বোর্ডের নাম পরিবর্তন করে নাম রাখেন ইউনিয়ন কাউন্সিল। উক্ত ইউনিয়ন কাউন্সিলের কার্যকাল ছিল ৫ বছর। ১৯৬০ সালে ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন আঃ সাত্তার খান মিলকী (ক্বরি মিলকী)। এরপর ১৯৭১ সালে ইউনিয়ন কাউন্সিলের নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় ত্রাণ কমিটি। তখন ত্রাণ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন সানাউল হক খান মিলকী। ১৯৭২ সালে ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ত্রাণ কমিটি ভেঙ্গে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত নামকরণ করা হয়। ১৯৭২ সালে নতুন সংবিধান প্রণীত হয়। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ কর্তৃক বিধি প্রণীত হয়। ইউনিয়ন পঞ্চায়েত-এর নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় ইউনিয়ন পরিষদ। ১৯৭৩ সালে প্রথম বাংলাদেশর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হন রাজী গ্রামের সাহেব আলী ভুঁইয়া, পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে আবু নছর আহম্মেদ (তুতা মিয়া), ১৯৮৪ সালে সাহেব আলী ভুঁইয়া, যথাক্রমে ১৯৮৮ সালে নাছির উদ্দিন খান মিল্‌কী (কাঞ্চন চেয়ারম্যান) পরপর দুই বার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ৩টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে ৯টি ওয়ার্ড সৃষ্টি করেন এবং ৩ জন মহিলা সদস্যকে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৯৮ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সানাউল হক খান মিল্‌কী, ২০০৩ সালে ইছহাক উদ্দিন ০১ নং রায়টুটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেন।


২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ। ইউনিয়ন পরিষদ দেশের প্রাচীনতম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এটি তৃনমুল পর্যায়ে জনগণের সবচেয়ে কাছের সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় জনগণের দোরগোড়ায় তথ্য ও সেবা পৌছে দিতে ২০১০ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র চালু করেন। যা পরবর্তীতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) নামে নামকরণ করা হয়।  ইউডিসি’র মূল লক্ষ্য হল, ইউনিয়ন পরিষদকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা, যাতে এই সব প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের মধ্যে একটি তথ্য ও জ্ঞান-ভিত্তিক দেশ প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এই সব কেন্দ্র সরকারি-বেসরকারি তথ্য ও সেবাসমূহ জনগনের কাছাকাছি নিয়ে যেতে, প্রযুক্তি বিভেদ দূর করতে ও সকল নাগরিককে তথ্য প্রবাহের আধুনিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করতে সুদুর প্রসারী ভূমিকা রাখতে পারে।


২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন বর্তমান চেয়ারম্যান ফয়সল কবীর মনোয়ার হোসেন মিলকী (বাক্কী)। তিনি জনগণকে সেবা ও উন্নয়ন কে লক্ষ্য করে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তিনি সেবা প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে সহযোগীতা করেন। তাঁকে নাগরিক সেবা প্রদানে জেলা প্রশাসন কর্তৃক ২০১২ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ট ডিজিটাল সেন্টার, ২০১৩ সালে জেলার শ্রেষ্ট চেয়ারম্যান এবং ২০১৪ সালে জেলার শ্রেষ্ট ডিজিটাল সেন্টারের সম্মাননা দেওয়া হয়।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একসেস টু ইনফমেশন (এটুআই) এর পরিকল্পনায় ২০১৪ সালে সরকারের বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে জনগণের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে বাস্তবায়িত হয় বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। দেশের নাগরিকগণ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, পর্যটন ইত্যাদি তথ্য পাওয়ার জন্য জাতীয় তথ্য বাতায়ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি, গেজেট, ই-সেবা, সরকারি ফর্মসমূহ, সিটিজেন চার্টার, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের তালিকা, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনপ্রতিনিধিদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি সব তথ্যই ‘বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন’-এ পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের সফলতা, সবার মিলিত চেষ্টায় আজ জাতীয় তথ্য বাতায়ন উৎকৃষ্টমানের একটি ওয়েব পোর্টালে পরিণত হয়েছে যা নিয়ে গর্ব করা যায়। আর সাধারণ মানুষ সহজে সব দরকারি সেবা ও তথ্য এ পোর্টাল থেকে পাচ্ছে।